আমার এক পুর্বতন সহকর্মী এবং বন্ধু কাল আমায় গল্পগুচ্ছ সফ্ট কপিতে হোয়াটস্যাপ করেন।
সেই বন্ধু সমিপেষু,
তখন আমি গ্রামের পাঠশালায় পড়ি।আমার পিতৃদেব মধ্য প্রদেশের গ্রামে রেলের চাকরি করতেন।সেই গ্রামের পাঠশালায় হিন্দি মাধ্যমে পড়ান হত।গ্রামের খড়ের ছাউনি দেয়া আটচালায় বসে পড়া হত।
মাতৃদেবির একক চেষ্টায় আমার বাংলা শেখা। আমার কোনো বাংলা পাঠ্যক্রম ছিল না।
মাতৃ ইচ্ছায় সেই বয়সেই কোনো এক সময় বাড়ির রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ পড়া আরম্ভ করি।সেই আমার প্রথম রবীন্দ্রনাথ পড়া।
এক নাগাড়ে দিনের পর দিন পড়ে কোনো এক গৃষ্মের অবকাশে সেটা সমাপ্তও করি।কিন্তু এই দীর্ঘ জীবনে গল্পগুচ্ছর মহিমা ভুলি নাই।বেশির ভাগ গল্পই আর মনে ছিল না, কিন্তু গল্পগুচ্ছ পড়ার অসাধারণ অভিজ্ঞতাটা মনে ছিল।
ক্রমশ বয়স বাড়ার সাথে ইংরাজি শিক্ষার প্রভাবে বাংলা ছেড়ে ইংরাজি ও ফরাসী অনুবাদ এবং ওন্যান্য সাহিত্যের প্রতি আকর্ষণ বাড়ল।সঙ্গে বাড়ল হিন্দি সাহিত্য পড়া। কারণ , হিন্দি প্রদেশে বড় হচ্ছি।
তবু বাংলা সাহিত্যের চর্চা একদম বন্ধ হয়ে যায় নাই।
ক্রমে বয়স বাড়ার সাথে গল্প-উপন্যাসাদি হতে প্রবন্ধের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে।পরে বিভিন্ন সাহিত্যের ইতিহাস,সাহিত্য সমালোচনা(literary criticism) ,বিভিন্ন সাহিত্যিক ও মণীষীদের পত্র,তাঁদের লেখা ডায়েরি,সনামধন্য রাজনৈতিক ও সমাজসেবি ব্যক্তিদের বক্তৃতা সংকলনএবং সব শেষে কম্পানীর কাজ সম্পর্কিত পড়ায় সময় নিবেশ করলাম।
কালান্তরে এক অসাধারণ পরিস্থিতিতে অবকাশ পাওয়ার পর মানসিক ভাবে পড়ায় মনোনিবেশ করতে পারি নাই। মনের বিক্ষিপ্ত দশায় তা সম্ভব হয় নাই। এদিকে অবসরোত্তর একটা নতুন জীবনধারায় নিজেকে অভ্যস্ত করার চেষ্টায়ও কিছুটা বিভ্রান্ত ছিলাম এবং মনে হয় এখনও আছি।
আজ আবার আপনার প্রেরিত গল্প গুচ্ছ পেয়ে মাতৃ ইচ্ছায় এবং তাঁর অসাধারণ চেষ্টায় বাংলা শেখার সেই অতীতের কথা মনে পড়ে গেল।মায়ের কাছে পড়া!সে আরেক আবেগপূর্ণ স্মৃতি কথা।সে নিয়ে পরে কথা হবে।আমার মাতৃবন্দনা করা হয় নাই কিন্ত ভবিষ্যতে তা বিশদ ভাবে করবার ইচ্ছা রাখি।কিন্তু সে বিষয় এখন নয়।
আজ আবার আমি গল্পগুচ্ছ পড়লাম।পড়লাম সেই বালকটির মতই যে আজ থেকে কয়েকদশক পুর্বে তাঁর অসাধারণ ব্যক্তত্বময়ী মায়ের প্রেরণায় গলপগুচ্ছ পড়েছিল।পড়লাম একরকম মাতৃবন্দনার ভাবে বিভোর হয়েই।ফিরে গেলাম সেই মায়ের প্রেরণার স্মৃতিমেদুর অতীতে।পেলাম সেই সুন্দর পরিবেশে গল্পগুচ্ছ পড়ার অসাধারণ আনন্দ।কে বলবে আমি আঠান্নয় পদার্পণ করেছি?কোথায় জেন তলিয়ে গেল জীবনের তিক্ত ও বিরক্তি ভরা ক্ষণ গুলো।
গল্পগুচ্ছ পড়ে অমি অভিভূত হলাম।
আপনাকে ধন্যবাদ দিলে কিছুই দেওয়া হয় না।
অতএব ধন্যবাদান্তের নিয়ম রক্ষা না করেই আজ শেষ করলাম।
ইতি,
Comments
Post a Comment