প্রশ্নটা ছিল: এই সংসারে কে আসল এবং বড় সাধক?
একজন বন্ধু প্রশ্নটা সর্বসমক্ষে ছুড়ে দেসুত্রেই সুত্রে আমার এই প্রতিক্রিয়া ।
'Catalin, সমারসেট মওমের একটা নিছক উপন্যাস মাত্র।যথেষ্ঠ জ্ঞানী কিংবা গুণী জনেরা বড় একটা পড়েন না।আমি সেই সম্প্রদায়ভুক্ত নই তাই ছাত্র জীবনে পড়েছিলাম। দুই ভাই।একজন গৃহত্যাগী সন্যাসী।দ্বিতীয় পুরদস্তুর সংসারী। Catalina একটি সাধারণ গৃহের সুতনয়া।সে সুন্দরী এবং জাগতিক আকর্ষনাদিতে নিমজ্জিত।সে সদ্য যৌবনে পদার্পণ করা, সুস্থ ও স্বাভাবিক তথা বয়সোচিত রসে পূর্ণ একটি মেয়ে।
এখানেই আপনারা ধৈর্য্য হারাবেননা।এটা আমার একটা বদ অথচ আটান্ন বছরের সংরক্ষিত অভ্যাস, বেশি বলি এবং লিখিও।
ঘটনা হল, এরা তিনজন একই গ্রামে জন্মেছেন ও আছেন।দেশটা ইংল্যান্ড। গ্রামের সবাই খ্রিস্টান। একশ বছর আগেকার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামটা ধর্মীয় গোঁড়ামিতে ভরা একটা সমাজ।
তা এহেন সমাজে চার্চের অনেকটাই আধিপত্য আছে এবং সন্যাসী ভ্রাতার সমাজে স্বিকৃতি অপরিসীম।তাঁর ভগবানের প্রতি ভক্তি এবং পরমাত্মায় আত্ম বিলয়ের কষ্টসাধ্য চেষ্টা সমাজে তাঁকে অসীম শ্রদ্ধা ও ভক্তি অর্জন করেদেয়।তবে আজও সে ভগবানকে পায়নাই কিংবা দৈবী শক্তির বরপ্রাপ্ত হয়নাই বলে আরও কঠীন তপস্যায় ব্রতী।
দ্বিতীয় ভ্রাতা সুসংসারী। স্ত্রী ,পুত্র, কন্যা ও পিতা- মাতা নিয়ে কর্তব্য সাধনে ব্যস্ত একজন সৎপ্রাণ ব্যক্তি।
ক্যাটালিনার ওপর চার্চের হেড নানের নজর।ইচ্ছা ক্যাটালিনার মত ব্যক্তিত্বের অধিকারিণীকে চার্চে নান করা । কারণ,সে জনসাধারণকে তার ব্যক্তিত্বের প্রভাবে ভগবান মনস্ক করে রাখতে পারবে।
কিন্তু ক্যাটালিনা চায় বিবাহ বন্ধনে পড়তে ও সন্তান ধারণ করতে।তার মন চায় একটি প্রেমিক স্বামীর সংসার করতে এবং তার সন্তান ধারণে ও সেই সন্তানকে মাতৃ-দুগ্ধ দানের মধ্যে জীবনের সব আনন্দ পেতে।
এহেন ক্যাটালিনার জীবনে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে।মাদাম মেরি একদিন তাকে দেখা দেয় এবং বরাভয় দেয় যে চার্চের নানের চাপে ভয় পেয়ে নত হবার দরকার নেই।সে তার ইপ্সিত পথেই থাকুক।
ক্যাটালিনা তাই নান কে জানায় মেরির কথা।
এখানেই গল্পের শীর্ষবিন্দুর দেখা।
চার্চ এটা মেনে নেয় না যে ক্যাটালিনাকে মাদাম মেরি দেখা দিয়েছে। তাঁরা ক্যাটালিনাকে মিথ্যাশ্রয়ী ও ভগবানের প্রতি অনাচারি বলেন।
গ্রামের সর্বসমক্ষে ক্যাটালিনার বিচার হওয়া চাই।এবং তা হওয়া চাই সন্যাস গ্রহণ করা ভ্রাতার দ্বারা। মিমাংসা হবে, যদি মেরীর দেখা পাওয়া ক্যাটালিনা গ্রামের জন্ম থেকে খোঁড়া একটি বালককে মাথায় হাত দিয়ে সুস্থ করে ।অতঃপর সেই সন্যাসী,গ্রামের সাধারণেরা ও নানেদের উপস্থিতিতে সর্বসমক্ষে ক্যাটালিনাকে সেই পরীক্ষা দিতে হয় এবং মেরির কৃপায় সে উত্তীর্ণও হয়ে যায়।
যে ভ্রাতা কঠীন সন্যাস ধর্মে ব্রতী তাঁর এই ঘটনায় তখন বোধোদয় ঘটে। সৎ ভাবে সংসার ধর্মে থাকা এবং স্বভাবিক জীবনের ছন্দে চলা, ভগবানেরই তৈরি করা জীবন শৈলী এটা এত দিনে তাঁর সমক্ষে পরিষ্কার হয়। এই জীবন শৈলীই তাঁর আরেক ভ্রাতার ধর্ম । ক্যাটালিনাও সেই ধর্মেই ইচ্ছুক।অতএব মেরি বোঝাল, এহেন জীবন-যুদ্ধের যোদ্ধাই আসল সাধক।
আমি তাই। এর মধ্যেই ভাল আছি।
Comments
Post a Comment