Skip to main content

Posts

Showing posts from April, 2018

যাত্রা শেষে

-  সিতাংশু বিকাশ রে আসে যৌবন, নিয়ে উদ্যম অফুরান ; জীবন-সংগ্রামে ব্যয় হয়ে যায় শক্তির সিংহভাগ। ব্যস্ততায় কেটে যায় নিয়ে বন্ধু,মা,বাবা,ভাই,বোন, আর নিয়ে প্রেম। দিনগুলো যায় সংসার, সংস্কার ,সংস্কৃতি রক্ষার চরম ব্যস্ততায়- ক্রমান্বয়ে জীবনের স্ফুলিঙ্গ সব শূন্যে মিশেযায়। জমে ওঠে মনের অনধিগম্য কোনো এক কোণে- স্মৃতির জীবাশ্ম। ন্যুব্জ দেহ বয় বয়সের ভার,শূন্য হয় সামর্থ্যের কোষাগার। বৃদ্ধি পায় সময়ের অনিঃশেষ সঞ্চয়। দিকে-দিকে চলতে থাকে জীবনের দৌড় ছুটছে সবাই, শিশু হতে প্রৌঢ়- নেই কারও ক্ষণিকের সময়। দিন শেষ হয়ে আসে কালের পঞ্জিকায়, একে একে বিদায় নিয়ে চলে বন্ধু,আপনজন- বিদায় নেয় জীবনসঙ্গীও। একাকীত্ব ধীর পদে এদিক সেদিক খুঁজেবেড়ায়, যদি কারো দেখা পাওয়া যায়, দেয় যদি কেউ একটু সময়। যদি দেখা কারো পায়, সহসা সে হাঁটা দেয় দ্রুত পায়ে। দেখে বয়স-ভার, বুঝি ভয় হয় তার- কত কথা শুনতে হয়,না জানি কতক্ষণ, রাখতে একাকী মন। জীবনের অস্তাচলে সব শেষ হয়ে চলে। চলে যায় কাছের মানুষ,বন্ধু,ব্যস্ততা,সব। দূরে সরে যায় সমাজ; সমাপ্ত হয় সকলের সকল প্রত্যাশা। পড়ে থাকে দেহ মনের অধিকারী এক নিস্পৃহ মৃত্তিক...

অবসরোত্তর আবোলতাবোল

-  সিতাংশু বিকাশ রে করেছি ছুটোছুটি প্রান্ত থেকে প্রান্ত, কত কাজ আর কথোপকথন, অবশেষে অবসর প্রাপ্ত এখন- আমি শ্রান্ত,হয়েছি পথ-ক্লান্ত। আমি বেঁধেছি বাড়ির কাছেই সীমা, হেঁটে পথ যত দূর শুধু তত দূর যাই, যান বাহনের আর প্রয়োজন নাই-  যাই না সিলচর-আইজল-কোহিমা। নেই অফিস নেই কাজ এত সব, ঘাসে শিশিরেই জগৎ পেয়েছি, কোলাহলের বদলে বেছে নিয়েছি- ঝোপে গাছে পাখিদের কলরব। "বাবা গেলি অনেক দূর, অনেক দেশ, পেলি অশ্বডিম্ব করে কাজ এত খেটে লাগে সেটা ঝোলে ঝালে না ওমলেটে- নাকি এটা ছাড়াই চলে যাবে তোর বেশ?" উত্তরটা অনুচ্চারিত'ই  রয়ে গেছে। চেষ্টা করছি অনেক বই'ও পড়েছি; গুণী জনেদের সঙ্গে কথা'ও বলেছি- উত্তরটা এখন'ও অধরাই হয়ে আছে আশা-আশঙ্কা'র দোলাচলে থাকি, জানিনা আমি সেই দিনক্ষণ, দূরের শেষ যাত্রা হবে কখন, রয়ে গেল যেটা এখন'ও বাকি। হয়তো সব ধারণা'ই হবে ভুল প্রমাণ, জন্মেছি যখন মায়াময় মনুষ্য কুলে-   হবে, মোহ-মায়ার বন্ধন সব না ভুলে,   বটবৃক্ষে বাড়ির নিকট,শেষ অবস্থান।

অগ্রগতির নাম কোলকাতা

-  সিতাংশু বিকাশ রে রাস্তার কলের তলায়, মাস-বাথ হলেই চলে। চলেনা কেলকেশিয়ানের মাছ-ভাত না হলে।    মাল খেয়ে বাথটাবে পড়া- ও তো বড়লোকের মরা- পাকলে না পাকলে বেল ক্যালকেশিয়ানের কি? রেভোল্যুশান হল ভাই, ক্যালকাটা হল কলকাতা তাই ছিল ক্যালকেশিয়ান যারা , হল কলকাতান তারা- মাসবাথ আর মাছভাতেই দিন এখন'ও সারা। ক্যালকেশিয়া ভালই আছে- পাড়ার মধুর ঠেকটা কাছে। ভাঁড়ে চা কয়েকবার, বিড়ির টানে দিনপার- চাহিদা পায়জামা আর ফতুয়ার। কার্লমার্ক্স গুলে খাওয়া , 'মেসির' বাড়ি রোজ যাওয়া। ধমনীতে রাজনীতির প্রোগ্রেসিভ ধারা বংশগতির। কোলকাতা ! আজব শহর, মানুষের কত বহর! উতলা হয়ো নাকো, ধৈর্য্য ধরে থাকো। আছে ভাই আতেলকাতান ইংলিশে আড্ডা মাতান- হাবেভাবে 'হাসজারু'র মতন মিশ্র ভাষণ যখন তখন। আছে অনেক মাতালকাতান নর নারী সব সমান- বার নামক সুড়িখানায় সন্ধ্যা হলে ঢের পাওয়াযায়। বিশেষ তবে নতুন কাতান হুক্কাবারে রোজ যান- গন্ধ-তামাক কল্কি ভরা, সুখটানে সময় কাটান। মানব শ্রেষ্ঠ হে কোলকাতান! মহান লোকের ন্যায়ে,চেয়ে গুণগ্রাহী পানে, নয়নে প্রশান্তি,ওষ্ঠে স্মিত হাস- কাহাকে আশীর্বাদ করে কর ধন্য হে মহান? সুন...

এ কেমন অন্ধকার

অভ্যাস হয়েছে এমন, হয়ে থাকি অচেতন। হয় যদি সূর্যোদয় মনটা খারপ হয়- আমি যে রাত্রিকে ভালবাসি। রেখে আঁধারের হাতে হাত, কাটে বেশ সারা রাত। স্বপ্নের ঘোরে থেকে পথচলা এঁকেবেঁকে- আন্ধকার যে আমার প্রেয়সী। মনের দুয়ার খুলে,এলোমেলো পথ চলে, আঁধারে চোখমুজে, বালিসে মাথা গুঁজে- ভাবি স্বপ্ন আমার সেবাদাসী। হঠাৎ কেন হায়!স্বপ্নটা ভেঙ্গেযায়! জানালায় আলো আসে পড়ে এসে আমার পাশে- ঘুম ভেঙ্গে বিছানায় উঠে বসি। এই বুঝি দিন হোলো, আলো যত ফিরে এলো! ভয় হয় মনে মনে, কি জানি কোনখানে , হারিয়ে পুতুলগুলো, কে হারায় হাসি? করবী গাছের মাথায় , ঝলমলে সোনালী আশায়, হাসবে কু়ঁড়িগুলো, আনন্দে বর্ণালী ভাষায়। সে আশা নিয়ে মনে,এসেছি ফুলবনে , কুঁড়িগুলো ফুটেনি আজ আর। মনে হয় কুঁড়িগুলো, বেসেছে আমার মত ভালো-  রাতের ঘন-কালো অন্ধকার।

বারমাস বৈশাখ

মুহুর্মুহু ভাঙ্গবে আশা? আশাভঙ্গ সহজ নয় অতো- জীবনের ডিকশনারিতে নেই নিরাশা। বারমাস রাগানুরাগ বরিষণ চিরন্তন- এ হলো গ্রীষ্মের ভীষণ তপন যখন, পুষ্প বৃষ্টি তখন। এর নেই কোনো কাল,নেই কোনো তিথি। অশনি সংকেতও নয়,বাঁচারও নেই রীতি। এই বর্ষণে সমর্পণএকমাত্র উপায়। বোধ আছে যার সে স্বাদ খুঁজে পায়। ছাতায় নেই লাভ, উড়ে সীমানা পার হয়ে যায়। ওয়াটারপ্রূফ? বৃষ্টি হতে বাঁচায়, যখন রিমিকি ঝিমিকি ভাদর-শ্রাবণের ধারা। ঝমঝমে ঝড়ো কালবৈশাখীতেএকটাই নিয়ম: ভিজে নেও, নেও ভিজে, কমবে গরম। আমার ক্যালেন্ডারে বারো মাস বৈশাখ, আসে কালবৈশাখী প্রতিদিন- ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে জল-কাদা মাখামাখি চলছে।

প্রত্যয়

প্রত্যয় -  সিতাংশু বিকাশ রে আমার হৃদয়ের চৈতন্যময় সত্তা -- করি না অবহেলা। গড়ি স্বপ্ন করি অদম্য প্রয়াস সদা -- স্বপ্ন নিয়ে হয়না খেলা মনের আঁকনে প্রকাশ পৃথিবী -- পারিনি এখনো  গড়তে। মনের আকাশে আলো-উদ্ভাস -- আজও দেয়নি বেলা পড়তে। আমি দেখেছি ব্যবিলনের শূন্যদান! দেখেছি হেলানো পিসার টাওয়ার মহান! যদি মিশরের পিরামিড মানুষেরই হয় গড়া, আমার জীবনে স্বপ্ন সকল রবে কেন অধরা। করি প্রয়াস করি শ্রম- করি চেষ্টা সকল রকম। মনে হয় আমি নবযৌবন-- সমর্পিত গড়তে জীবন। মনে হয় নয় মৃগ মরিচিকা-- মরুভূমে  মরুদ্যানের দেখা। হয়ত নিয়েছি অধিক সময়, তবু হবে জয় তাই মনে হয়।

মাতৃ-ঋণ (করবট) মন্দির বারাণসী

মাতৃ-ঋণ (করবট) মন্দির বারাণসী -  সিতাংশু বিকাশ রে অনুক্ত আজ শত শত বছরের মাতৃ-ঋণ মুক্তির ব্যার্থ ধৃষ্ট প্রয়াস। অনুচ্চরিত এক কুসন্তানের অতি দম্ভের স্তম্ভিত করা ইতিহাস। মাতৃঋণ শোধে কৃতঘ্নের প্রগলভ রচনার বিফল প্রয়াস: সৃষ্ট হয় শত-শত বছরের স্মারক,বারাণসীর এই ধৃষ্টতার নিঃশব্দ পরিহাস। দর্শনে করবট মন্দির,মাতৃ-অনাদরে রুদ্ধ হয় স্বাস। নাহি সহ্য হয় প্রকৃতির দেখে মাতৃ-বিরোধের আভাস। সেই স্থাপত্য ন্যুব্জ আজ পাচ শতাব্দীর অপকৃষ্টির অসহনীয় ভারে। মাতৃত্ব,বিবেক,মানবতা,দেবতার অভিশাপে রাখতে মাথা সোজা নাহি পারে। নিমজ্জিত মাতৃ-ঋণ মন্দিরের গর্ভগৃহ গঙ্গাবক্ষে। প্রমাণ করে জননীর প্রতি পুত্রের অধর্ম,কৃতঘ্নতা - সর্ব অপদার্থতা পরোক্ষে। গঙ্গাবক্ষে মানসিংহ রাজা মাতৃ-ঋন মুক্ত হবার কল্পে করবট মন্দির নির্মাণ করে। কিন্তু সেই মন্দির ভুল স্থাপত্যের দরুন হেলে যায় এবং গর্ভগৃহ জলতলে হয়ে পূজার অনুপযুক্ত হয়। আজও সেই মন্দির বারাণসীর গঙ্গাবক্ষে বর্তমান।

মেসবাড়ি আনন্দ ভবন - সিতাংশু বিকাশ রে

স্বপ্ন নয় সে যে সত্য- ছিল এক মেসবাড়ি। রোজ চড়ত ভাতের হাড়ি- ভুলতে পারি?! মালিক ছিল মা-বাবা আমার- মনে তাঁদের ভালবাসা অপার। খাওয়া দাওয়া আর সব পাওয়া, দামের বেলা কিছু না চাওয়া। চাইত শুধু পড়ালেখা, চাইত ডিসিপ্লিন। না হলে ভাই অগ্নিদৃষ্টি- হাড় হত হিম! আজ যখন সেই মেস নেই আর, টানতে হয় গো নিজের ভার। ভাবি তখন ছিল না চেতন- চালাতে মেস চাই কত বেতন?! তাইতো বলি আসল কথা- মা-বাবার মত আপন কোথা? খুঁজি ঈশ্বরকে কেন  অতো- মা-বাবা যখন ঈশ্বরের মতো? মা-বাবা কে দিও গো মান- করেছে যারা সব কিছু দান। তাঁদের যখন বার্ধক্য আসে দাঁড়িও গো তাঁদের পাশে।

চিরবিস্ময়ের সীমানায়

চিরবিস্ময়ের সীমানায় -  সিতাংশু বিকাশ রে এক শৈবালিনী, প্রবাহ অবাধ! আর রাত্রির কোলে পুঞ্জিভূত বলাহকের ক্ষণপ্রভা হাসি। কত রহস্য! মন কৌতুহলে  ভরা- প্রশ্ন কত অধরা! এক অরণ্য,গহন অসীম! আর গভীর সাগরের  ঊর্মিউচ্ছ্বল জল। বিবিধ কত থাকে অজানা - গভীরে লুকায়ে কত অচেনা! আর সেই নীল আকাশ! যেন হাত নেড়ে ডাকে- পাখা মেলে চিনে নিতে বলে অজানাকে। আমি চাই যেতে হারিয়ে- অন্তহীন চিরবিস্ময়ের  সীমানা পেরিয়ে। অগুণতি বিচিত্রের মাঝে, যেতে চাই অসংখ্য অজানার কাছে। চাই আমার পিছুটানের সীমারেখা করতে অতিক্রম- ভেঙ্গে বাধা সব রকম। চাই জেনে নিতে সব অজানাকে- বিবিধের মাঝে চাই আপনাকে।

রাজ-চক্রান্ত

অদ্ভুত আনন্দ-ধোঁয়া ভাসে আকাশের তলে, আবেশিত মোহময় নেশামন কেমন কেমন। আলো আঁধারে মাতানো পরিবেশ, সম্মোহক অস্ফুট আনন্দ অনুক্ষণ। হয়না বিধির লেখন হেথা, নেই আশংকার নির্দয় মন্থন। আচ্ছন্ন মানুষ,আচ্ছন্ন বিধাতারাও; আচ্ছন্ন করা আনন্দ আবরণ। আনন্দে আনন্দে নিশ্চিন্ত নিদ্রা, বাতাসে আনন্দের মধুময় আবেদন; আনন্দে নেশাতুর স্বপ্নময় সকলে, অন্তহীন আনন্দের প্লাবন সারাক্ষণ। করে নাহি লক্ষ্য, মগ্ন আনন্দ আবেশে ; ধ্বংসের নিঃশব্দে নিশ্চিত পদচারণ । ঘুম পাড়ায়েছে অর্থলোলুপ রাজ-চক্রিগণ; দিয়েছে আগায়ে নেশার উপকরণ। আনন্দে তিমিরাচ্ছন্ন কি হারায় বোঝেনা; বোঝেনা কৌশলির সাজান প্রহসন। আনন্দ মৌতাতে মেতে থাকে  সদা, করে রূপকথার জগতে আবাধ বিচরণ । আনন্দ-উৎসব , আনন্দ-মদিরা; হর্ষোল্লাস ভরা মন-পবন। আনন্দের নেশা-নৃত্য লাগামহীন চলে; হয় নিঃশব্দে লু ন্ঠিত কোষাগারের ধন।

হাতছানি

জীবনের মাইল-পাথর, নিঃশব্দ, নয় নিরুত্তর। বলে দেয় কতটা তফাত, কত অন্তর। চলেছি নিরন্তর, নিরুপায়, নষ্টচেতন। অদৃষ্টের হাতছানি, দুর্বার মহাকর্ষের বিবর--এক কৃষ্ণ- গহ্বর! মাইল-পাথর! করে পথ সু দীর্ঘ অতিক্রম, সুদূর  গন্তব্য  তবু নেই অবসর! চিত্ত অনড়। করতে হবে পার, জীবনের দূরত্ব সকল। অবিরাম প্রয়াস অতঃপর। জীবনের মাইল-পাথর! বলে দূর ত্ব শু ধু ।বলে না, গন্তব্য   অসংখ্য মহাশূন্যের সমষ্টি নির্ভর!

স্মৃতি অবিনশ্বর

অামি চিতা,  নিয়ে যাই ধোঁয়া রূপে, ধরা, ছোঁয়া, চোখে দেখা হতে দূরে। রেখে যাই কিছু অবশেষ, দেও গঙ্গা বক্ষে। তবু আসে থেকে থেকে স্মৃতি গুলো ফিরে। আমি অশ্রান্ত,আমি চিরন্তন, অতনু আমি। বারংবার ,আনাহুত, তবু আসি ফিরে। আসি ফিরে, দেই মুক্তি আপনেরে মায়া,দুঃখ,ক্লেশ যা কিছু থাকে ঘিরে। আমার শেষ নাই। জ্বলে  জ্বলে উঠি তাই বারে বারে। জ্বলে যাই তবু পারি নাই, মুছে দিতে স্মৃতি রেখা গুলো চিরতরে। স্মৃতি?সে যে অবিনশ্বর! হৃদয়ের মাঝে শিলা লেখা হয়ে পড়ে। চিরন্তন সে, অতনু সে, অশ্রান্ত । জ্বলে ধিকি ধিকি , বেড়ে উঠে শিখা হয়ে বারে বারে। পঞ্চভূতে মিশায়ে দেয়   চিতাগ্নি ,   করে  অদৃশ্য   নশ্বর দেহ চিরতরে। স্মৃতিশিখা জ্বলে যায়  নিরন্তর, স্পন্দনে স্পন্দনে অবিনশ্বর, নাহি শেষ তার কভু পুড়ে।

অবসরোত্তর প্রথম লেখা

অবসরোত্তর প্রথম লেখা -  সিতাংশু বিকাশ রে আমার জগত কর্মশূন্য, অবসরেতে কাটে। ছোটাছুটি নেইকো আর, যাইনে মাঠে ঘাটে। শান্তি আমার চিরসাথী, শান্তির অভাব নাই। অশান্তি কে দিয়েছি বিদায়, সাথী আজ কবিতাই।

কোলকাতা বুকফেয়ারে খাওয়াদাওয়া ও ফেসবুক

কোলকাতা বুকফেয়ারে খাওয়াদাওয়া ও  ফেসবুক: -  সিতাংশু বিকাশ রে কলকাতা বুক ফেয়ারে খাওয়া দাওয়া ও ফেসবুক: বাঁচার চেষ্টা কে না করে, শুনেছ কেউ নিজে চেয়ে মরে? বলেনি তোমায় বন্ধু যারা, বই পড়ে কেমন যায় সব মারা? বলেছিল সেই বুদ্ধিমানে, না পড়ে সে কত কি না জানে! বলেছিল ভাই আমার কানে, পড়াশুনা যত অপঘাত আনে: "পড়ালিখা করে যে, গাড়ি চাপা পড়ে সে!" বুক ফেয়ারে হইচই, কত খাবে?পাবে যত চপ কাটলেট রসগোল্লা, এবং পাবে মিষ্টি দই! বুক ফেয়ার? কতটা ফেয়ার? পাওয়া যায় বুক, নেই কোনো কেয়ার। বুকের পাতায় কত কি করা, নেই কেন তা লাইকে ভরা? বুক দিলে তাঁর মুখ নাহি দিলে, পড়ে বুক তাই শুখ নাহি মেলে। পাব বুকেতে শুখ মুখও হলে, বুকেরও মুখ ফেসবুকেই মেলে।

ভালবাসা দিবস ১৪ ফেব্রুয়ারি

ভালবাসা দিবস ১৪ ফেব্রুয়ারি -  সিতাংশু বিকাশ রে হতভাগা: হাত ছিল খালি, হৃদেতে ভাষা, মুখে কথা নেই, চোখেতে আশা। ভাগ্যবান: আজ নাকি কোনো ভালবাসা দিন, মেতেছে মানুষ, মন সব রঙ্গিন। কত ফুল দেয়,কত দেখে আশা, চোখেতে চমক ,মুখে কত ভাষা! গৃহহীন সব হতভাগা যারা, আকাশ তলে কাটে রাত সারা। সারাদিন কত ঘোরে মাঠে ঘাটে পেটেতে খিদে , ভাত নাহি জোটে। ভালবাসা কি সে আশা নাহি জানে, কত শ্রম দেয় তবে  কিছু পায় দানে। এত সব তার মনে নাহি জাগে, সুখ এ জীবনে জোটে নাহি ভাগে। তোমরা যারা ভাগ্যবান, পেয়েছ অর্থ পেয়েছ মান। মেতেছ কত আনন্দে আজ, কত কথা বল, কত কর সাজ। এদিনে আজ এত ভালবাসা দেও কত দেও মন ,মন কত নেও। ভেবেছ কি আজ হতভাগা কারা? কখন ভেবেছ গৃহহীন যারা, কোথা কাটে তাদের সারা রাত, পেটে ক্ষিদে তবু জোটে না যে ভাত? ভেবেছ কখন আজ এ দিনে, দেব ভালবাসা তাঁরে বুকে টেনে?

ক্ষমতার নীরব-শক্তি আর শক্তির ক্ষমতা নীরব

ক্ষমতার নীরব-শক্তি আর শক্তির ক্ষমতা নীরব -  সিতাংশু বিকাশ রে জান কি সে এক আজব দেশে জীবন চলে অানন্দের বেশে? জলেতে মাছ, স্থলেতে ধান, খাওয়াদাওয়া কত আর কত গান! কত সুখ সেথা,কত আহ্লাদ, কত হর্ষ জীবনে, নেই তো বিষাদ! তবে কি জানো সেথাও আছে, মানুষ এমন যার নেই কেহ কাছে? জোটেনা তার পেটেতে ভাত মাঠেতে কাটে তার দিন রাত! কিবা পায় সে, কত করে ক্লেষ, কত দেয় শ্রম, নেই তার শেষ। কত টানে ঘানি, কত ঝরে ঘাম, তবু পায় কম, জোটে না আরাম। এমনি দেশে আছি ঘুমায় এখনো, দেখেও দেখিনা, ভাবিনা কখনো। তুমিও ত আছ আমারই মত, করেও কর না করা যায়  যত । তবে! আছে যেন তারও মুখে সে হাসি যে হাসি মোরা দেখে ভালবাসি। ভাবিনি কখনো সে হাসে বা কেমনে, হাসে কেহ যার চলে যেমনে তেমনে ? আমরা যারা ভাগ্যবান, অথবা যারা অতি ধনবান, যারা করেছি কিছু পড়াশোনা, আর ক্ষমতাবান কিছু হাতে গোনা। কখনো ভাবিনা সে ও কাঁদে হাসে, যে হসি কান্না আমাদেরও আসে। শ্রম করে যারা থাকে অাধপেটে  এত করে তবু দুখ নাহি মেটে। নেয় কোটি কোটি কেহ নীরবে লুটে , দিয়ে সর্বশক্তি কেহ নিঃশব্দে খাটে। প্রয়োগে ক্ষমতার কেহ করে উল্লাস,  দেয় সর্...

কি হারালম!

কি হারালম! -  সিতাংশু বিকাশ রে কত ছবি থেকে যায়  অ্যালবামের পাতায়, থেকে যায়  কত কথা স্মৃতির খাতায়। যে সকল ছবি গুলো নেয়া হয় নাই, সকল পদচিন্হ যা অবহেলায় হারাই।  অব্যক্ত থাকে কোনো এক মনের কোণে, সহসা উঠে আসে এক বিরল দিনে। পড়ে মনে ফেলে আসা প্রথম পদক্ষেপ, কাদা মাঠে খেলাধুলা  মাটির প্রলেপ। শঙ্খ  উলুধ্বনি আর প্রদীপের  শিখা, মনের আঙিনায় আজও পাই তার দেখা। ফুলের পবিত্র গন্ধ সুগন্ধি ধুনোর ধোঁয়া, তুলসী তলায় আছে , যায় নি তা খোয়া। মনে পড়ে ফেলে আসা খরস্রোতার পার, কচুরিপানায় ঢাকা  সেই পুকুরের ধার। রাখাল ছেলে যায় যত গাভীদের নিয়ে, আসে ফিরে সেই পথে গোধুলি পেরিয়ে। উঠানের কোণে থাকা  শেফালীর তলা, শিশিরে ছড়ানো তার ফুলের মেলা । ফেলে আসা জীবনের মনোরম সেই সব       মুছে গেছে, আছে শহরের কর্কশ কলরব।

মহুয়া গাছটা

মহুয়া গাছটা -  সিতাংশু বিকাশ রে সেই শীতের সকালে যখন সূর্য দিল উঁকি, পাখিরা করল তাদের প্রথম কুজনে কুহুতানে ডাকাডাকি। ঠিক তখনি আমার ভোর হল খুলে উত্তরের দুয়ার, দেখি শিশিরে ভেজান ঘাসে ছড়ানো মুক্তার বাহার! করে কুহেলিকা ভেদ অনতিদূরে দেখি মহুয়ার গাছ, অনাবিল আনন্দে এই প্রাতে ধরেছে মহুয়ার সাজ! মহুয়ার স্নিগ্ধ স্বেত বর্ণে মেশা একি মাতানো আল্হাদ, দিয়েছে ছড়ায়ে বাহারে তলায় মহুয়া ফুলের প্রসাদ! শিশিরে ভেজা তৃণের মাথায় তখন আরেক সাজ, করে প্রকৃতি তাকে মাতৃ-স্নেহে দান অপূর্ব মণিমুক্তার কাজ! কে যেন তার শিল্পী মনে করে সুন্দর আয়োজন। কেন তবে মানুষ করে তা ধ্বংস, কি তার প্রয়োজন? স্থানটা মধ্যপ্রদেশে ছেড়ে আসা  আমার জবলপুরের বাড়ি। শীতের সকালে। তার চারপাশ।

মনে আঁকা ছবি দেখার চোখ

মনে আঁকা ছবি দেখার চোখ -  সিতাংশু বিকাশ রে নড়ে যায় ইজেলটা বারে বারে, হয় না  মনের মত টান। যে ছবি আঁকা আছে মনে, হতে হবে তারই সমান। বাধা দেয় তুলিটাও থেকে থেকে, দেয় না আঁকতে সে আঁখি। কি জানি কেন ক্যানভাসটাও দিচ্ছে আমায় আজ  ফাঁকি। রংটাও আজ কেন যেন মনমরা হয়ে হয়ে আছে। থাকছে আমার থেকে দূরে আসবে না যত টানি কাছে। আকাশেতে ঘন কালো মেঘ বেসামাল  হাওয়ার পাগলামি। ক্যানভাসটাকে ওড়ায় থেকে থেকে, সে ছবি কেমনে আঁকি আমি? যে ছবি আঁকা ছিল মনে, এলোমোলো করে দিল ঝড়। ইজেল ক্যানভাস রং তুলি সব, ছিল আপন হয়ে গেল পর।      আঁকবো না আর আমি ছবি, উঠুক এবার যত ঝড়। ইজেল ক্যানভাস রং তুলি যত হয়ে থাক চিরতরে পর। যে ছবি মনে মনে আঁকা, সে আঁকাই শেষ আঁকা হোক। চাই না ইজেল ক্যানভাস রং তুলি, চাই মনে আঁকা ছবি দেখার চোখ।

রামের বেদনা

স্থির হয়ে কেন গাছের পাতা সব, হয় নাই পাখিদের চেনা কুহুরব? কেন ফুলেরা হয়ে আছে রঙহীন, প্রজাপতিরা মেলেনি কেন পাখা? ভ্রমরেরাও করে নাই আজ গুঞ্জন, নেই হাওয়ায় সুন্দর স্বপ্নটা মাখা! হয়েগেল কেন নিস্পন্দ নিথর চারিদিক, নিশ্চল কেন  চিরঅদম্য রথের চাকা? কেন হয়ে গেল এ শহরটা  আকস্মাত দমবন্ধ বিষাদের ঘন আস্তরণে ঢাকা? চলেগেল সতেজ টগবগে কিছু প্রাণ, নিষ্ঠুর  হন্তারকের চরম অস্ত্রাঘাতে। মহাকাব্যের নায়ক রাম খলনায়ক হল, রক্তলোলুপ বর্বরের  মিথ্যা অজুহাতে। চায় নাই রামায়ণের রাম ভরে যাক রামরাজ্যে বর্বরতা বিদ্বেষ আর ঘৃণা। নির্দয় নির্মম আঘাতে মানুষ মানুষ কে, পিশাচ সেজে দিয়ে যাক নরক যন্ত্রণা!

যাই কত দূর এখন

এখন আর বেশি দূর যাইনা। পায়ে হেঁটে যতটা যাওয়া যায় সেটাই এখন আমার সীমা।Ola এবং Uber এর Appগুলো মুছে ছেড়েছি।ঘরের কাছের শিশির বিন্দুতেই সিন্ধু দর্শনান্তে নিজেকে প্রশ্ন করি : "বাবা গেলি  অনেক দেশ ও অনেক দূর।পেলি  শুধু ই অশ্বডিম্ব। সেটা ঝোলে লাগে না মামলেটে?" উত্তরটা অনুচ্চারিতই আছে।হয়ত কঠিন কথা এক আপন  বন্ধুরা ছাড়া আর কেউ বলবেনা । আশায় কিংবা আশঙ্কায়(জানিনা কোনটায়) রইলাম। এখন ও একটা আসল দূরপথের যাত্রা বাকি আছে । তার দিনক্ষণ মানুষ এবং আমার মত অমানুষের অজানা। আবার  পরিশেষে অন্য রকমও হ য়ে যেতে পারে । এমনও হতে পারে,  দূরপথ দুরস্ত হ য়েও মানব যো নি তে জন্মের দোষে , জেনে এবং অজান্তে অনেক বাধ্যতামূলক কৃত পাপ কর্ম ও অর্জিত মায়ার বন্ধন যোগে , বাড়ির নিকটের বটবৃক্ষেই শেষে স্থায়ী অবস্থান হবে।

হাসতে হলেও ভাবতে হবে?

রম্যরচনাগুলিতে কয়েকরকমের হাসির বর্ণনা পাওয়া যায়। ফিচিৎ হাসি।মুচকির একটু ভিন্নাকৃতি মাত্র কিন্তু ইঙ্গিত সুদূরপ্রসারী।যারা কৈশররাগে রঙ্গেছেন,তাঁরা ফিচিৎ হাসির তাৎপর্য্য অনুধাবন করবেন।কৈশররাগ বঞ্চিত যারা, তাঁরা ভয়ংকর রকমের বঞ্চনার শিকার।ফিচিৎ হাসি কতটা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে এবং সে প্রভাব কত দ্রুত কৈশর হতে যৌবনে পাড়ি দেওয়া প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে সেটা কৈশররাগ না আসলে বোঝা যায় না। আকর্ণবিস্তৃত হাসি আবার অনাবিল আনন্দের হাসি হতে ভিন্ন।এ হাসি সাধারণত পূর্ণবয়স্কের অতিনির্বুদ্ধিতা জনিত হাস্যস্পদ কান্ডের হাসি।এ হাসির অভিজ্ঞতা নাই, মানবকূলে এহেন ব্যক্তি দুর্লভ।স্থান কাল পাত্র ও পরিবেষ বিশেষে কখনো কখনো এ হাসি হেসে স্বীকার করতে হয় আমি কতটা বোকা এবং ক্ষমাপ্রার্থী। দোদোমা হাসি আবার বড়ই ফাঁকা ও উচ্চগ্রামের কুটনৈতি ও এক রকমের নঞর্থক অভিব্যক্তি। দুর্ভাগ্যক্রমে আমাকে বহুবার   এ হাসির প্রপক হতে হয়েছে এবং আরও হব একথা স্বীকার না করে উপায় নাই। হাসির কারণ আবার কৌতুক রসাসিক্তের অভিধানে তিন রকম। বুঝে,ভুল বুঝে আর অন্যকে হাসতে দেখে। বাংলা ও হিন্দ...

গল্পগুচ্ছ কথা

আমার এক পুর্বতন সহকর্মী এবং বন্ধু কাল আমায় গল্পগুচ্ছ সফ্ট কপিতে হোয়াটস্যাপ করেন। সেই বন্ধু সমিপেষু, তখন আমি গ্রামের পাঠশালায় পড়ি।আমার পিতৃদেব মধ্য প্রদেশের গ্রামে রেলের চাকরি করতেন।সেই গ্রামের পাঠশালায় হিন্দি মাধ্যমে পড়ান হত।গ্রামের খড়ের ছাউনি দেয়া আটচালায় বসে পড়া হত। মাতৃদেবির একক চেষ্টায় আমার বাংলা শেখা। আমার কোনো বাংলা পাঠ্যক্রম ছিল না। মাতৃ ইচ্ছায় সেই বয়সেই কোনো এক সময় বাড়ির রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ পড়া আরম্ভ করি।সেই আমার প্রথম রবীন্দ্রনাথ পড়া। এক নাগাড়ে দিনের পর দিন পড়ে কোনো এক গৃষ্মের অবকাশে সেটা সমাপ্তও করি।কিন্তু এই দীর্ঘ জীবনে গল্পগুচ্ছর মহিমা ভুলি নাই।বেশির ভাগ গল্পই আর মনে ছিল না, কিন্তু গল্পগুচ্ছ পড়ার অসাধারণ অভিজ্ঞতাটা মনে ছিল। ক্রমশ বয়স বাড়ার সাথে ইংরাজি শিক্ষার প্রভাবে বাংলা ছেড়ে ইংরাজি ও ফরাসী অনুবাদ এবং ওন্যান্য সাহিত্যের প্রতি আকর্ষণ বাড়ল।সঙ্গে বাড়ল হিন্দি সাহিত্য পড়া। কারণ , হিন্দি প্রদেশে বড় হচ্ছি। তবু বাংলা সাহিত্যের চর্চা একদম বন্ধ হয়ে যায় নাই। ক্রমে বয়স বাড়ার সাথে গল্প-উপন্যাসাদি হতে প্রবন্ধের প...

ক্যালকেশিয়ানা

মাছ ভাত আর রাস্তার কলের তলায় মাস-বাথ(mass-bath) হলেই কেলকেশিয়ানের এবং তাঁর পাড়ার নেড়ি কেলসিশিয়ানের চলে যায়। মাল খেয়ে বাথটাবে মুখথুবড়ে পড়ে পয়সাওয়ালারা।মরুক গে।বেল পাকলে কেলকেশিয়ানের কি আর না পাকলে কেলসিশিয়ানেরই বা কি? ভেবেছিলাম আমার মন্তব্য এতেই শেষ করব কিন্তু জনৈক বন্ধু আপত্তি করলেন । বললেন কেলকেশিয়ান আর বলা যায়না কারণ এখন সব কলকাতান।যথার্থই বললেন।তবে আমিও ভুল বলি নাই ।আজকের কলকাতান এখন নানা রঙে-রূপে ও কার্যকলাপে বিভিন্ন প্রকারের।কয়েকটা শুধু মাত্র বোঝার জন্য নিম্নে প্রস্তুত করছি।এ নিয়ে বিশদ ভাবে লিখব কি না তা ভাবতে হবে। সাবেকিয়ানায় কলকাতান হল কেলকেশিয়ান।যেমনটা বললাম, সে মাছে-ভাতে ভালই আছে।তার পরনে একটা লুঙ্গি আর হাফ পাঞ্জাবি হলেই হল।পাড়ার রামুর দোকানের দুটাকা ভাড়ের চা আর বিড়ির সুখটানের সাথে কার্লমার্ক্স থেকে লিওনেল মেসি সবই বিশদ ভাবে আলোচনা করে।'জেনারেল নলেজের' বিরাট ভান্ডার।কত জানে কিন্তু এতটুকু গর্ব করেনা।আবার অনেক কিছুই জানেনা তাতে দুঃখও নেই।সে সব সময় ভালই থাকে। তবে এ ছাড়া আরও আছে। যেমন,আঁতেলকাতান।এরা হলেন ইংরাজি, হিন্দি ও বাংলার মিশ্রণ...

এই সংসারে কে আসল এবং বড় সাধক?

প্রশ্নটা ছিল: এই সংসারে কে আসল এবং বড় সাধক? একজন  বন্ধু প্রশ্নটা সর্বসমক্ষে ছুড়ে দেসুত্রেই সুত্রে আমার এই প্রতিক্রিয়া । ' Catalin, সমারসেট মওমের একটা নিছক উপন্যাস মাত্র।যথেষ্ঠ জ্ঞানী কিংবা গুণী জনেরা বড় একটা পড়েন না।আমি সেই সম্প্রদায়ভুক্ত নই তাই ছাত্র জীবনে পড়েছিলাম। দুই ভাই।একজন গৃহত্যাগী সন্যাসী।দ্বিতীয় পুরদস্তুর সংসারী। Catalina একটি সাধারণ গৃহের সুতনয়া।সে সুন্দরী এবং জাগতিক আকর্ষনাদিতে নিমজ্জিত।সে সদ্য যৌবনে পদার্পণ করা, সুস্থ ও স্বাভাবিক তথা বয়সোচিত রসে পূর্ণ একটি মেয়ে। এখানেই আপনারা ধৈর্য্য হারাবেননা।এটা আমার একটা বদ অথচ আটান্ন বছরের সংরক্ষিত অভ্যাস, বেশি বলি এবং লিখিও। ঘটনা হল , এরা তিনজন একই গ্রামে জন্মেছেন ও আছেন।দেশটা ইংল্যান্ড । গ্রামের সবাই খ্রিস্টান । একশ বছর আগেকার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামটা ধ র্মীয় গোঁড়ামিতে ভরা একটা সমাজ। তা এহেন সমাজে চার্চের অনেকটাই আধিপত্য আছে এবং সন্যাসী ভ্রাতার সমাজে স্বিকৃতি অপরিসীম।তাঁর ভগবানের প্রতি ভক্তি এবং পরমাত্মায় আত্ম বিলয়ের কষ্টসাধ্য চেষ্টা সমাজে তাঁকে অসীম শ্রদ্ধা ও ভক্তি অর্জন করেদেয়।তবে আ...

অবসর,আড্ডা আর চন্ডুখোরি গপ্প

অবসর,আড্ডা আর চন্ডুখোরি গপ্প জীবনটা এভাবেই চলুক ভালই লাগছিল।বাধা দিল কলকাতার মশার আধিক্য।এদিকে জানলাম আমার এক বয়োজ্যেষ্ঠ দাদা জিনি আবার কর্মস্থলে প্রথমে বস ও পরে সহকর্মী হলেন এই মশার বংশবৃদ্ধি ও ফলস্বরূপ কামড়ে তিতিবিরক্ত। সেই দাদা সমীপেষু :- মিষ্টির প্রভাব কতটা তিক্ত বোধহয় সবাই জানেন।আপনিও।তা জ্ঞান যে মানুষকে অজ্ঞান করে সেটা আমি জানি।আপনি জানেন না বলে বয়োজ্যেষ্ঠ আপনার কাছে আর কানমলা খাবনা।খাবনা মিষ্টিও।প্রথমেই বলে দি , কানমলা না খাওয়ার দৃঢ়চেত ধৃষ্ঠ-উচ্চারণ করতেই হচ্ছে। এই প্রত্যয় প্রকাশের জন্য ক্ষমা প্রার্থণা করে রখলাম।ক্ষমা করবেন কি না আপনি কতটা উদার তার ওপর নির্ভরশীল।তবে আবার জ্ঞানীজনেরা বলেন, কখনো কখনো  নিরূপায় হলে ক্ষমাই একমাত্র উপায়।তাই ক্ষমা পাওয়া নিয়ে চিন্তিত নাই বা হলাম। এই যে সেদিন বললাম সহজেই ধৈর্য্য হারাবেন না।আমি বেশি বলি ও লিখি।এটা বিগত আঠান্ন বছরের সংরক্ষিত বদ অভ্যাস। তা প্রথমেই এই নিকৃষ্ট বক্তার কানমলায় এত অনিহা কেন নাহয় সেটাই জানাই, মিষ্টি নিয়ে তারপর।প্রথমেই এটা জানলে ক্ষমা করা যায়না জেনেও তাই ই করবেন। এই যে মধ্য বয়সের আমাকে দেখছেন,আমি...

রাম ও রহমত

রহমত তুমি আর এসোনা কাবুলি ওয়ালার সাজে। রহমত তুমি অার এসোনা মিনি খোকিটার খোঁজে। রহমত আজ পেয়েছে আমায় যুগ-পুরূষ রামের ভাব। রহমত ! আমি চাইনা কর আমার দুয়ারে আবির্ভাব। রহমত আর ডেকোনা মিনিকে এসে আমার দুয়ারে । রহম ত ! অবাঞ্ছিত তুমি তাই আর এসোনা বাড়ির ধারে । রহমত তুমি যাও চিরতরে সুদূর হিন্দুকুশের পারে । রহমত  তুমি আসবেনা আর আমাদের উন্মুক্ত দুয়ারে । মিনি আমার কন্যা সমা মিনি যে আমার জান। আব্বার মনে দেখি মিনিকে নিজ কন্যার সমান। আল্লাহের দেয়া স্নেহ ভালবাসা ঈশ্বর করেনা অস্বীকার। অল্লাহ আর ঈশ্বরেতে বিভেদ মানুষের মনের বিকার। আকাশে আজ সূর্য কিরণে পেয়েছি রক্তের আভাস। ভাইকে মেরে রঙেছে হাত, নিয়তির এই পরিহাস ! রহমতের দু়ঃখ বুঝিনি আমি, বুঝিনি রহমতের কি ব্যাথা। মত্ত হয়ে করি রামের নাম,   হল    লুপ্ত আমার  মানবিকতা।