ভূতেরই ভবিষ্যত আছে।
তবে, ভৌত নয় ভৌতিক।
কেন?
বলছি:
১৯৬৪ র পূজাবার্ষিকী 'উত্তরায়ণ', দেবসাহিত্য কুটির।
হাসির গল্প কিন্তু দিন-রাতের ঘুম লোপাট সারা জীবনের জন্য।
নাম ' তবলাদার ভূত' -উমাশঙ্কর।
এক পাড়ার দাদা, তবলাদা'র গল্প।
একদম তবলা পাগল।মুখে তা ধিন ধিন তা না ধিন ধিন না তেড়ে কেটে মেরে পিটে দমাদম সারাক্ষণ মুখে আর সঙ্গে দুই হাতে। সামনে যা পায় তাই চাঁটিয়ে দেয়। তবলা পেলে পাগলা পুরা বারো ঘন্টা এক টানা তারপর বাপের তাড়া খেয়ে ছাড়া।
সেই রকম একদিন দুপুরে আয়েশ করে তবলাদা পাড়ার অশ্বত্থ গাছের মগডালে বসে বলে উঠলো:
তা ধিন ধিন তা আর সেখান থেকে ধপাস।সঙ্গে সঙ্গে বোল বদল, শোনা গেলো: "তাঁ ধিঁন ধিঁন তাঁ"।
এরপর পুরো গল্পটা হাসির হবে হয়তে কিন্তু আমি তখন পাঁচ বছরের বালক।গা ছম ছমিয়ে উঠলো আর দেখলাম বাগানের পেয়ারা গাছে সাদা ছায়া মত কায়া হীন এক দাদা বলছে "তাঁ ধিঁন ধিঁন তাঁ" আর একটি অদৃশ্য তবলা বাজাতে বাজাতে পড়ে যাচ্ছে। আবার, গাছের ডালে বসে সেই তবলা!
বই বন্ধ করে চোখ মুজে বালিসে মাথা গুঁজে পূজোর ছুটির ভর দুপুরে তবু শুনতে পাচ্ছি "তাঁ ধিঁন ধিঁন তাঁ"।
সেই শোনা আজও শুনি আর গা ছম ছম করে।
কালও শুনবো।
ভূতের যদি ভবিষ্যৎ নাই থাকতো তাহলে এটা কি হতো?
Comments
Post a Comment