দমদম দাওয়াই
🕙🕒🕟🕙🕘
পিতৃআচার।
সন্তানের ওপর দমদম দাওয়াই প্রয়োগ একটা চিরন্তন ব্যাপার ছিল।
না, যারা আমার পরের জেনারেশন, তারা এটার মহিমা ঠিক হয়তো অনুধাবন করতে পারবে না । তাই তাদের, ভারতবর্ষের এই সনাতনী পিতৃআচার কেমন ছিল আর ফলদায়ী কতটা ছিল, সেটা জানার জন্য একটা ক্ষীণ চেষ্টা করবো।
এই আমাকেই দেখ।
বুঝতে হবে,
বাপের দমদম দাওয়াই না হলে কি কি হতো না :
১)পড়াশুনাটা হতো না।
২) সহ্য ক্ষমতা বাড়তো না।
৩) সফল চাকর হতে না পেরে খেয়ে পরে থাকা হতো না।
এই সব দুর্লভ প্রাপ্তি সে যুগে পিতার নিরলস পরিশ্রমের দরুন অতি দুরন্ত বালকগণেরও হতো।
আজ সেই সব পদ্ধতি বর্জিত।
তবে কখনও কখনও একদম যে প্রয়োগ হয়না তা নয়।কিন্তু, পুরানো সব কিছুই আজ কার্যকারিতা হারিয়েছে।
সেই ক্লাশ ফোরে পড়ার সময়ের কথাটা মনে পড়ে আর ভাবি:
মানুষটাকে কত খাটতে হয়েছে। কর্তব্যনিষ্ঠা তাকে অনুপ্রণিত করে রাখতো আমাকে বাঁদর হতে কিছুটা মানুষ ধরণ করতে।
পেরেছিল কিন্তু ল্যজটা কিছুটা অবশিষ্ট রয়ে গেলো।পুরাটা কাটতে পারে নাই।কারণ তিনি ল্যজ কাটার উদ্যোগ নিতেই আমি তড়াং করে বাড়ির উঠোনের বিশাল আমগাছের মগডালে আশ্রয় নিতাম।তখন নিরুপায় মানুষটাকে বলতে হতো বাবারে, বাছারে নেমে আয়, কি বিপদ ইত্যাদি।
এরকমই একদিন অঙ্গিকার করলো এখনের মত আর ভয় নাই নেমে আয়।দমদম দাওয়াই আজকের মত বন্ধ রইলো।নেমে আয় সোনা আমার।
নামার পর প্রশ্ন:
১) এত ভালো মাথা একটু মন দিয়ে পড়াটা করলে হয়না?
২) কেনো একটু পড়াশুনায় সময় দিসনা?
অঙ্কেরচেও বেশি বিপজ্জনক এই প্রশ্ন।
তাই চুপ।
-বল্ না, কিছুই হবে না। বল্ কেনো এরকম অমনযোগী? বল্? বলতেই হবে।
- বলতেই হবে?
- হ্যাঁ।জানতে চাই।
- জেনে মারবে না?
- না।
- নিজে পড়ো শুধুই পত্রিকা আর ম্যাগাজিন, আমার বেলায় কেনো এত সব পড়া? তাই।
তৎক্ষণাৎ পিতৃঅঙ্গিকার ভঙ্গ হলো:
আমি আবার সেই মগডালে।
Comments
Post a Comment