ফলেন পরিচিয়তে
🍒🍒🍒🍒🍒🍒🍒
কথিত আছে আদি মানব বেশ সুখেই ছিল।মরল মানব সভ্যতা নামক ভয়ানক রোগে।
সভ্য হবার পূর্বে সে গাছের ফল খেত আর পরমানন্দে দিন কাটাত।
এদের মধ্যে একজন আদিমানব মাঙ্গলিক ছিল।
যত মঙ্গল গ্রহ জাত কুচক্রের শিকার, মাঙ্গলিক।তার রাশি চক্রে মঙ্গলের জোরালো অবস্থানের ফলে যত সব অঘটন ঘটতে লাগল।
এমনি এক অঘটনের দিনে তাঁর হঠাৎ মনে হল এই যে গাছটা, যার সুস্বাদু ফল খেয়ে আমার ক্ষিদে মিটে যায়, তার আসল পরিচয় কি?
সভ্যতা বিবর্তনের ইতিহাস অনুসন্ধিৎসু মনের অকারণে এমনি সব উদ্ভট,বৈজ্ঞানিক এবং অতি অবান্তর প্রশ্নের প্রবাহে প্রবাহিত এক লম্বা কাহিনী।
ভয়াক গ্রহ এই মঙ্গল!
প্রশ্ন জাগল আমার মনে, কোথায় অবস্থিত এই মঙ্গল গ্রহ?
একজন বন্ধু জানাল মঙ্গল গ্রহ পৃথিবী থেকে ২২৭.9x10 কোটি কি. মি. দূরে অবস্থিত। মানুষের প্রতি বিরাট উৎসাহী।মানুষের মনকে এত দূরে থেকেও ভয়ানক সব প্রবণতা প্রদান করে। মানুষের জীবনেও অনেক রকমের বিধ্বংসী প্রভাব ফেলে।
সব থেকে মারত্মক প্রভাব হলো, বিবাহে ভাঙচি দেওয়া।
এ কি মারাত্মক কথা?
বলি, বিয়ে বলে ব্যাপার। এ যে মহা সমস্যা!
উপায়?
খোঁজ নিয়ে জানলাম আমাদের সমৃদ্ধ শাস্ত্র সমুহে প্রতিকারও দেওয়া আছে বিস্তর।
নিশ্চিন্ত হলাম।কারণ শাস্ত্রে দেওয়া বিধানে
দুর্দান্ত ফল পাওয়া যায়।একদম অব্যর্থ।
কি সেই প্রতিকারা?
শাস্ত্র মতে মঙ্গলের দশা কাটানোর একাধিক উপায় রয়েছে।
যদি দু’জন মাঙ্গলিকের মধ্যে বিবাহ দিতেই হয়, তবে দু’জনেরই এই দশা কাটিয় দেওয়ার পর বিবাহ সম্ভব।
তবে কেন বলে বিয়েতে ভাঙচি?বাজে বলে, প্রতিকার কর,সব ঠিক হয়ে যাবে।
কি প্রতিকার?
দেখা যাক :
১. কুম্ভবিবাহ নামের একটি রীতির মাধ্যমে বিয়ের আগে কাটানো হয় মঙ্গল দশা। এই রীতিতে মাঙ্গলিক জাতক বা জাতিকাকে হয় একটা কলাগাছ বা পিপুল গাছ অথবা ভগবান বিষ্ণুর একটা স্বর্ণ বা রৌপ্য মূর্তির সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়।
জাতক কে বিষ্ণুর সাথে নিশ্চয় নয় কারণ, বিষ্ণু পুরুষ দেবতা?
যাক গে, ফল পেলেই সব ঠিক।
সবই ফলেন পরিচিয়তে।
না হয় দিলই।বিষ্ণুর যখন এ বিষয়ে কোনো তাপ-উত্তাপ নেই তখন সব চলবে।
২. নিয়ম করে প্রতি মঙ্গলবার উপবাস রাখলে এবং শুধুমাত্র অড়হর ডাল সেবন করলে আস্তে আস্তে কেটে যায় এই দশা।
অড়হর ডালও খাবে অথচ উপবাস?
তা ছাড়াও, অড়হর ডালের সাথে মঙ্গলের কি সম্পর্ক থাকতে পারে জানিনা। মঙ্গল গ্রহে অরহড় কেন কোনও ডালই ফলান যায় না শাস্ত্র যাই বলুক।তবে এত ভাবলে চলে না-ফলেন পরিচিয়তে।
অতএব, করতে পার।
৩. প্রতি মঙ্গলবার নবগ্রহ মন্ত্র উচ্চারণ করলে এই দোষ কেটে যায়। আবার প্রতিদিন ১০৮ বার গায়ত্রী মন্ত্র জপ করলে বা প্রতিদিন হনুমান চালিসা পাঠ করলেও কেটে যায় মঙ্গল দশা।
হনুমান চালিসা?
নাহ্!
মঙলে প্রাণের খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি।হনুমানের সম্ভাবনা খুবই কম।খোঁজ চলছে।যদি ভবিষ্যতে হনুমানই পাওয়া যায় তখন ভাবা যাবে ।
আপাতত সেই, ফলেন পরিচিয়তে।
৪. মঙ্গলবার দানধ্যান করলেও মঙ্গল তুষ্ট হন । এছাড়া তলোয়ার, ছুরি, মুসুর ডাল, লাল সিল্ক, রক্তপ্রবাল ইত্যাদি লাল বস্তু নিবেদন করলেও সন্তুষ্ট হন।
মঙ্গল লাল গ্রহ তার কারণ লৌহ এবং অক্সিজেনের যৌগ আকরিকের ধুলো কণা মঙলের পৃষ্ঠভাগে ছড়ান আছে।
লাল সিল্ক বা লাল প্রবাল....!!??
সঙ্গে আবার তলোয়ার, ছুরি, মুসুর ডাল....?????!!!!!
ভীষণ গোলানো ব্যাপার!!
আমি বরঞ্চ আদি মানবেই ফেরত যাই।
মাঙ্গলিক আদি মানব মানে মঙ্গলের ভয়ানক অশুভ প্রভাব তার মনে ও জীবনে।
ফলত: তার মনে আলোড়ন ফেলান প্রশ্ন জাগলো।
বৃক্ষ কে প্রশ্ন করলো:
-বৃক্ষ তোমার নাম কি?
বৃক্ষের জবাব অসাধারণ:
-নাম জেনে কি হবে?
সবই ফলেন পরিচিয়তে।
🍒🍒🍒🍒🍒🍒🍒
কথিত আছে আদি মানব বেশ সুখেই ছিল।মরল মানব সভ্যতা নামক ভয়ানক রোগে।
সভ্য হবার পূর্বে সে গাছের ফল খেত আর পরমানন্দে দিন কাটাত।
এদের মধ্যে একজন আদিমানব মাঙ্গলিক ছিল।
যত মঙ্গল গ্রহ জাত কুচক্রের শিকার, মাঙ্গলিক।তার রাশি চক্রে মঙ্গলের জোরালো অবস্থানের ফলে যত সব অঘটন ঘটতে লাগল।
এমনি এক অঘটনের দিনে তাঁর হঠাৎ মনে হল এই যে গাছটা, যার সুস্বাদু ফল খেয়ে আমার ক্ষিদে মিটে যায়, তার আসল পরিচয় কি?
সভ্যতা বিবর্তনের ইতিহাস অনুসন্ধিৎসু মনের অকারণে এমনি সব উদ্ভট,বৈজ্ঞানিক এবং অতি অবান্তর প্রশ্নের প্রবাহে প্রবাহিত এক লম্বা কাহিনী।
ভয়াক গ্রহ এই মঙ্গল!
প্রশ্ন জাগল আমার মনে, কোথায় অবস্থিত এই মঙ্গল গ্রহ?
একজন বন্ধু জানাল মঙ্গল গ্রহ পৃথিবী থেকে ২২৭.9x10 কোটি কি. মি. দূরে অবস্থিত। মানুষের প্রতি বিরাট উৎসাহী।মানুষের মনকে এত দূরে থেকেও ভয়ানক সব প্রবণতা প্রদান করে। মানুষের জীবনেও অনেক রকমের বিধ্বংসী প্রভাব ফেলে।
সব থেকে মারত্মক প্রভাব হলো, বিবাহে ভাঙচি দেওয়া।
এ কি মারাত্মক কথা?
বলি, বিয়ে বলে ব্যাপার। এ যে মহা সমস্যা!
উপায়?
খোঁজ নিয়ে জানলাম আমাদের সমৃদ্ধ শাস্ত্র সমুহে প্রতিকারও দেওয়া আছে বিস্তর।
নিশ্চিন্ত হলাম।কারণ শাস্ত্রে দেওয়া বিধানে
দুর্দান্ত ফল পাওয়া যায়।একদম অব্যর্থ।
কি সেই প্রতিকারা?
শাস্ত্র মতে মঙ্গলের দশা কাটানোর একাধিক উপায় রয়েছে।
যদি দু’জন মাঙ্গলিকের মধ্যে বিবাহ দিতেই হয়, তবে দু’জনেরই এই দশা কাটিয় দেওয়ার পর বিবাহ সম্ভব।
তবে কেন বলে বিয়েতে ভাঙচি?বাজে বলে, প্রতিকার কর,সব ঠিক হয়ে যাবে।
কি প্রতিকার?
দেখা যাক :
১. কুম্ভবিবাহ নামের একটি রীতির মাধ্যমে বিয়ের আগে কাটানো হয় মঙ্গল দশা। এই রীতিতে মাঙ্গলিক জাতক বা জাতিকাকে হয় একটা কলাগাছ বা পিপুল গাছ অথবা ভগবান বিষ্ণুর একটা স্বর্ণ বা রৌপ্য মূর্তির সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়।
জাতক কে বিষ্ণুর সাথে নিশ্চয় নয় কারণ, বিষ্ণু পুরুষ দেবতা?
যাক গে, ফল পেলেই সব ঠিক।
সবই ফলেন পরিচিয়তে।
না হয় দিলই।বিষ্ণুর যখন এ বিষয়ে কোনো তাপ-উত্তাপ নেই তখন সব চলবে।
২. নিয়ম করে প্রতি মঙ্গলবার উপবাস রাখলে এবং শুধুমাত্র অড়হর ডাল সেবন করলে আস্তে আস্তে কেটে যায় এই দশা।
অড়হর ডালও খাবে অথচ উপবাস?
তা ছাড়াও, অড়হর ডালের সাথে মঙ্গলের কি সম্পর্ক থাকতে পারে জানিনা। মঙ্গল গ্রহে অরহড় কেন কোনও ডালই ফলান যায় না শাস্ত্র যাই বলুক।তবে এত ভাবলে চলে না-ফলেন পরিচিয়তে।
অতএব, করতে পার।
৩. প্রতি মঙ্গলবার নবগ্রহ মন্ত্র উচ্চারণ করলে এই দোষ কেটে যায়। আবার প্রতিদিন ১০৮ বার গায়ত্রী মন্ত্র জপ করলে বা প্রতিদিন হনুমান চালিসা পাঠ করলেও কেটে যায় মঙ্গল দশা।
হনুমান চালিসা?
নাহ্!
মঙলে প্রাণের খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি।হনুমানের সম্ভাবনা খুবই কম।খোঁজ চলছে।যদি ভবিষ্যতে হনুমানই পাওয়া যায় তখন ভাবা যাবে ।
আপাতত সেই, ফলেন পরিচিয়তে।
৪. মঙ্গলবার দানধ্যান করলেও মঙ্গল তুষ্ট হন । এছাড়া তলোয়ার, ছুরি, মুসুর ডাল, লাল সিল্ক, রক্তপ্রবাল ইত্যাদি লাল বস্তু নিবেদন করলেও সন্তুষ্ট হন।
মঙ্গল লাল গ্রহ তার কারণ লৌহ এবং অক্সিজেনের যৌগ আকরিকের ধুলো কণা মঙলের পৃষ্ঠভাগে ছড়ান আছে।
লাল সিল্ক বা লাল প্রবাল....!!??
সঙ্গে আবার তলোয়ার, ছুরি, মুসুর ডাল....?????!!!!!
ভীষণ গোলানো ব্যাপার!!
আমি বরঞ্চ আদি মানবেই ফেরত যাই।
মাঙ্গলিক আদি মানব মানে মঙ্গলের ভয়ানক অশুভ প্রভাব তার মনে ও জীবনে।
ফলত: তার মনে আলোড়ন ফেলান প্রশ্ন জাগলো।
বৃক্ষ কে প্রশ্ন করলো:
-বৃক্ষ তোমার নাম কি?
বৃক্ষের জবাব অসাধারণ:
-নাম জেনে কি হবে?
সবই ফলেন পরিচিয়তে।
Comments
Post a Comment