ঠুস
👎👎
"Everyone gets 86,400 seconds in a day. What do you do with all your time?"
এক মহাজ্ঞানী ইংরাজ সাহেব বললেন।
মানতে অসুবিধা হলেও অনেকবার গণনা করেছি।
মন মানে নি তাই একদিন সারাদিন ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটার দিকে চেয়ে বসে রইলাম।দেখলাম, ৮৬হাজার ৪00 সেকেন্ডেরই দিন।
এত?!
কতদিন হল জীবনের?
আমার জীবনের আজ ষাট বছর ২৪ দিন আর ঠিক এইক্ষণে দশ ঘন্টা ৪6 সেকেন্ড। তবে 'এইক্ষণ' আর সেই ক্ষণ নেই: দ্রুত, অতিদ্রুতগামী ক্ষণকালের গতি ধরা দেয় না।
যেই ক্ষণে লিখলাম সেই ক্ষণে অঙ্ক করে দেখি কতক্ষণ?
৩৬৫×২৪×৮৬৪০০ = ৭৫৬৪০০০ সেকেন্ড এরও বেশি ঠিক এখনই।
সর্বনাশ!
-এই এতক্ষণের জীবনে বেঁচে থাকার নির্জাস কী?
আকাশবাণী হল:
-বৎস নির্জাস জানতে চাও?
সভয়ে বললাম
- 'হুঁ'।
- বৎস, নির্জাস হল 'ঠুস'!
প্রশ্ন করলাম
-এই ' ঠুস' কী?
- বৎস উত্তম প্রশ্ন, তবে উত্তরও তথৈবচ:
অজাযুদ্ধে ঋষিশ্রাদ্ধে প্রভাত মেঘডম্বরে।
দম্পত্যোঃ কলহ চৈব বহ্বারম্ভে লঘুক্রিয়া।
আমি সুধালাম
-তার মানে?
তিনি নিরুত্তর।
বারম্বার সুধানর পর বুঝলাম সেই
অদৃশ্য বাণীকার প্রস্থান করেছেন আমার মূঢ়তা অবলোকনে কিংবা এতটকুু উত্তরই আমার প্রাপ্য বোধে করে।
নিরুপায় আমি অনুসন্ধান করতে লাগলাম কী মানে হয় এই দুর্বোধ্য সংস্কৃত দোহার।
এক পন্ডিতপ্রবর পাশের গলীর শনি মন্দিরে পূজা করেন।পরিধানে ময়লা ধুতি আর একটি ততোধিক ময়লা জামা। কিন্তু পূজার ঘন্টা বাজালেই শতাধিক ভক্তরা ভিড় করেন।
আমিও শামিল হই।
আমার খিচুড়িতে প্রীতির কথা নতুন নয়।সঙ্গে লাবড়াও হয়।স্বাদ গৃহের খিচুড়ির বেশি নয় কিন্তু বিনা পয়সার ভোজনের তৃপ্তি শুধু মাত্র অভিজ্ঞ জনেরই জানা।
ভক্তেরা অবশ্য ব্যতিক্রমী।
তারা আমার মত নয়।
তারা শনি দেবতার ভক্তিতে তদগতপ্রাণ হয়ে মাটিতে লুটায়ে প্রণমোত্তরেই প্রসাদের ঠোঙ্গা গ্রহণ করেন।
আমি ততক্ষণে তিন ঠোঙ্গা প্রসাদ খাদ্যনালিতে পাচার করে পুরোহিতের আশীর্বাদ নিয়ে পরের সপ্তাহে আবার আসব প্রতিজ্ঞা করি।
আমার কারণ আলাদা।
আজ বহু বছর, থুড়ি, সেকেন্ড হলো অবসর নিয়েছি। শনি হতে প্রসাদী ঠোঙ্গার মাহাত্য অনেক বেশি বুঝি।
কিন্তু , সংস্কৃতে রচিত সেই
"অজাযুদ্ধে ঋষিশ্রাদ্ধে প্রভাত মেঘডম্বরে।
দম্পত্যোঃ কলহ চৈব বহ্বারম্ভে লঘুক্রিয়া।"
মানে কি বুঝি না।
নিরুপায় হয়ে শনি মন্দিরের পন্ডিত প্রবর শ্রী ময়লা-বস্ত্র মহাশয়ের পায়ে প্রণাম করে বললাম প্রভু আপনিই পারেন এই আকাশবাণীর অর্থ বোঝাতে।
তিনি বার কয়েক পড়লেন তারপর বোঝালেন:
-দুইটি ছাগল আরক্ত নয়নে শৃঙ্গ উঁচিয়ে দন্ডায়মান হলো, বোধ হয় প্রলঙ্করী এবং ব্রহ্মান্ড রসাতলে যাবে এরকম একটা কিছু হবে।
কিন্তু হয় সেইরূপ যেইরূপ ঋষিশ্রাদ্ধে ক্রমাগত কুড়িজনের কলার খোলা কাটাই সার, শ্রাদ্ধ সকলেরই এক হয়।
অর্থাত, ছাগল দুটো ভয়ঙ্কর এক যুদ্ধের আবাহন করে পরস্পরের প্রতি শৃঙ্গ উঁচিয়ে ধাবমান হয় যেন ঘোর যুদ্ধের সম্ভাবনা কিন্তু হয় মাত্র
'ঠুস'।
আকাশবাণীর অর্থ বুঝলাম:
আমার ছয় বছর বয়সে পাঠশালা গমন দিয়ে জীবনে একটা কিছু করবার যুদ্ধের শুরু হয়। দীর্ঘ চুয়ান্ন বছর ধরে প্রথমে পড়াশুনা ও তার পর চাকরি করে অবসর নেওয়ার কষ্টকর প্রচেষ্টার নির্জাস হল:
সেই " ঠুস"।
👎👎
"Everyone gets 86,400 seconds in a day. What do you do with all your time?"
এক মহাজ্ঞানী ইংরাজ সাহেব বললেন।
মানতে অসুবিধা হলেও অনেকবার গণনা করেছি।
মন মানে নি তাই একদিন সারাদিন ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটার দিকে চেয়ে বসে রইলাম।দেখলাম, ৮৬হাজার ৪00 সেকেন্ডেরই দিন।
এত?!
কতদিন হল জীবনের?
আমার জীবনের আজ ষাট বছর ২৪ দিন আর ঠিক এইক্ষণে দশ ঘন্টা ৪6 সেকেন্ড। তবে 'এইক্ষণ' আর সেই ক্ষণ নেই: দ্রুত, অতিদ্রুতগামী ক্ষণকালের গতি ধরা দেয় না।
যেই ক্ষণে লিখলাম সেই ক্ষণে অঙ্ক করে দেখি কতক্ষণ?
৩৬৫×২৪×৮৬৪০০ = ৭৫৬৪০০০ সেকেন্ড এরও বেশি ঠিক এখনই।
সর্বনাশ!
-এই এতক্ষণের জীবনে বেঁচে থাকার নির্জাস কী?
আকাশবাণী হল:
-বৎস নির্জাস জানতে চাও?
সভয়ে বললাম
- 'হুঁ'।
- বৎস, নির্জাস হল 'ঠুস'!
প্রশ্ন করলাম
-এই ' ঠুস' কী?
- বৎস উত্তম প্রশ্ন, তবে উত্তরও তথৈবচ:
অজাযুদ্ধে ঋষিশ্রাদ্ধে প্রভাত মেঘডম্বরে।
দম্পত্যোঃ কলহ চৈব বহ্বারম্ভে লঘুক্রিয়া।
আমি সুধালাম
-তার মানে?
তিনি নিরুত্তর।
বারম্বার সুধানর পর বুঝলাম সেই
অদৃশ্য বাণীকার প্রস্থান করেছেন আমার মূঢ়তা অবলোকনে কিংবা এতটকুু উত্তরই আমার প্রাপ্য বোধে করে।
নিরুপায় আমি অনুসন্ধান করতে লাগলাম কী মানে হয় এই দুর্বোধ্য সংস্কৃত দোহার।
এক পন্ডিতপ্রবর পাশের গলীর শনি মন্দিরে পূজা করেন।পরিধানে ময়লা ধুতি আর একটি ততোধিক ময়লা জামা। কিন্তু পূজার ঘন্টা বাজালেই শতাধিক ভক্তরা ভিড় করেন।
আমিও শামিল হই।
আমার খিচুড়িতে প্রীতির কথা নতুন নয়।সঙ্গে লাবড়াও হয়।স্বাদ গৃহের খিচুড়ির বেশি নয় কিন্তু বিনা পয়সার ভোজনের তৃপ্তি শুধু মাত্র অভিজ্ঞ জনেরই জানা।
ভক্তেরা অবশ্য ব্যতিক্রমী।
তারা আমার মত নয়।
তারা শনি দেবতার ভক্তিতে তদগতপ্রাণ হয়ে মাটিতে লুটায়ে প্রণমোত্তরেই প্রসাদের ঠোঙ্গা গ্রহণ করেন।
আমি ততক্ষণে তিন ঠোঙ্গা প্রসাদ খাদ্যনালিতে পাচার করে পুরোহিতের আশীর্বাদ নিয়ে পরের সপ্তাহে আবার আসব প্রতিজ্ঞা করি।
আমার কারণ আলাদা।
আজ বহু বছর, থুড়ি, সেকেন্ড হলো অবসর নিয়েছি। শনি হতে প্রসাদী ঠোঙ্গার মাহাত্য অনেক বেশি বুঝি।
কিন্তু , সংস্কৃতে রচিত সেই
"অজাযুদ্ধে ঋষিশ্রাদ্ধে প্রভাত মেঘডম্বরে।
দম্পত্যোঃ কলহ চৈব বহ্বারম্ভে লঘুক্রিয়া।"
মানে কি বুঝি না।
নিরুপায় হয়ে শনি মন্দিরের পন্ডিত প্রবর শ্রী ময়লা-বস্ত্র মহাশয়ের পায়ে প্রণাম করে বললাম প্রভু আপনিই পারেন এই আকাশবাণীর অর্থ বোঝাতে।
তিনি বার কয়েক পড়লেন তারপর বোঝালেন:
-দুইটি ছাগল আরক্ত নয়নে শৃঙ্গ উঁচিয়ে দন্ডায়মান হলো, বোধ হয় প্রলঙ্করী এবং ব্রহ্মান্ড রসাতলে যাবে এরকম একটা কিছু হবে।
কিন্তু হয় সেইরূপ যেইরূপ ঋষিশ্রাদ্ধে ক্রমাগত কুড়িজনের কলার খোলা কাটাই সার, শ্রাদ্ধ সকলেরই এক হয়।
অর্থাত, ছাগল দুটো ভয়ঙ্কর এক যুদ্ধের আবাহন করে পরস্পরের প্রতি শৃঙ্গ উঁচিয়ে ধাবমান হয় যেন ঘোর যুদ্ধের সম্ভাবনা কিন্তু হয় মাত্র
'ঠুস'।
আকাশবাণীর অর্থ বুঝলাম:
আমার ছয় বছর বয়সে পাঠশালা গমন দিয়ে জীবনে একটা কিছু করবার যুদ্ধের শুরু হয়। দীর্ঘ চুয়ান্ন বছর ধরে প্রথমে পড়াশুনা ও তার পর চাকরি করে অবসর নেওয়ার কষ্টকর প্রচেষ্টার নির্জাস হল:
সেই " ঠুস"।
Comments
Post a Comment