চাঁদে বাঙালি
অআকখঙচছ
''ওঁ ক্ষীরপুত্রায় বিদ্মহে অমৃতত্বায় ধীমহি তন্নোঃ চন্দ্র প্রচোদয়াৎ ।''
''দিব্যশঙ্খতুষারাভং ক্ষীরোদার্ণব সম্ভবম্।
নমামি শশিনং ভক্ত্যা শম্ভোর্মুকুট ভূষণম্।।''
''চন্দ্র'' বা "চাঁদ"একজন হিন্দু দেবতা ৷ তিনি সুদর্শন, সুপুরূষ, দ্বি-বাহুযুক্ত। তার এক হাতে অস্ত্র ও অন্য হাতে পদ্ম।তিনি তার দশটি শ্বেত ঘোড়ার রথে চড়ে রাত্রে আকাশে উদিত হন ৷ তিনি আরো অনেক নামে পরিচিত। যেমন: সোম ইন্দু , অত্রিসুত , শচীন , তারাধিপতি ও নিশাকারা। তার নামানুসারে সপ্তাহের একটি দিন হল সোমবার ৷
হিন্দু পুরাণ অনুসারে চন্দ্র অত্রির পুত্র ও সপ্তবিংশতী নক্ষত্রের স্বামী। তিনি বুধগ্রহের পিতা, দক্ষের জামাতা। মধ্যযুগীয় পুরাণ মতে চন্দ্র দেবগুরু বৃহস্পতির পত্নী তারা কে বিবাহপ্রস্তাব দেন। গুরুপত্নী তাকে প্রত্যাখ্যান করেন। তারা চন্দ্রের দ্বারা অপহৃত হন ও এক পুত্রের জন্ম দেন। এই চন্দ্র-তারার পুত্রের নাম বুধ।ব্রহ্মা চন্দ্রের উপর চাপ সৃষ্টি করেন তারাকে তাঁর স্বামী বৃহস্পতির নিকট ফিরিয়ে দিতে বাধ্য করেন।
যত্তসব!
চাঁদ আকাশে দেখা যায়।মানুষ চাঁদে পদার্পণ করেছে।বিজ্ঞান মতে চাঁদ পৃথিবী থেকে আলাদা হওয়া একটা গ্রহ।
এখন মানুষ চাঁদে বসবাস করার স্বপ্ন দেখছে।
ভ্রমণ পিপাষু বাঙালি চাঁদে বেড়াতে যাবেই।আগে ভ্রমণে গিয়ে বাঙালি মাছের ঝোল-ভাত খুঁজত।সেই জন্য সব ভ্রমণের যায়গায় হোটেলে হোটেলে মাছের ঝোল-ভাতের ব্যবস্থা পাওয়া যায়।এখন বাঙালি মাছ-ভাত নয় আলু দেওয়া বিরিয়ানি খোঁজে।
ব্যরাকপুরের 'বৌদির বিরিয়ানি' বাংলার সর্বোৎকৃষ্ট।এটা আমি বলি না কারণ আমি আধা বাঙালি তাই বিরিয়নি রসে বঞ্চিত: সে বৌদির হোক বা বড়দার;আলু দেওয়া বা না দেওয়া।
কিন্তু আপামর বাঙালি মরবার সময় মুখে গঙ্গাজল দিতে আর বলে না।বলে, বৌদির আলু দেওয়া বিরিয়ানি এক চামচ দিস তাহলে মরে বৌদির বিরিয়ানির দোকানের আসেপাশে ঠাঁই পাব।স্বর্গের মোহ কাটিয়ে মরেও বাঙালি বৌদির বিরিয়ানির দোকানের পাশে কোন এক গাছে কিংবা কারোর চিলেকোঠায় এক চিলতে স্থান পেতে রোজ রাত্রে কলরব করে।নাকি সুরের সেই রব শুনে বৌদির বিরিয়ানির সবাই বেড়ে গুণমুগ্ধ।
সেই বাঙালি ভ্রমণ পাগল।চাঁদে যাবার জন্য রেডি।রকেট তৈরি হলেই দুগ্গা বলে চাঁদে বেড়াতে যাবে।কিন্তু সেখানে খাবে কী?
শুনেছি এক সর্দারজিকে আমেরিকা নিয়ে যাবার বদলে ভ্রমণ সংস্থা ছল করে চাঁদে রেখে আসে।আজ বহু বছর হল সে চাঁদে ঢাবা খুলে বসে আছে।
আর্মস্ট্রং সেখানেই খেয়েছিল।তারিফও করেছিল।
কিন্তু বাঙালির আলু দেওয়া বৌদির বিরিয়ানি না হলে চলে না।বৌদির বিরিয়ানির মালকিন বৌদি তাই যাবার জন্য প্রস্তুত।ব্যবসার বিস্তার করার এটা ভালো উপায়।
বাঙালির ব্যবসার বুদ্ধির তারিফ করতে হয়।মেড়োগুলো ভেজিটারিয়ান।ব্যবসা বাড়াতে হলে ননভেজের বিকল্প নেই।এখানেই বাগবাজারের মেড়ো কে ব্যারাকপুরের বাঙালি টেক্কা মেরে দিল।
দারুন দিল।
বৌদির বিরিয়ানির মালকিন বৌদি প্রথম রকেটেই চাঁদে যাবেন ।যাবার সময় এক হাঁড়ি বিরিয়ানি নিয়ে যাবেন প্রথম বাঙালি পর্যটক দলটার জন্য।তারপর সআলুকরণে বাংলা-বিরিয়ানি রাঁধবেন আর বাঙালি পর্যটক গপাগপ খাবে।
এদিকে চাঁদের সর্দারজি খবরটা পেয়ে চিন্তায় আছেন।বাঙালিই তো বেশি বেড়ায়।তার কি আর রুটি তরকা বিক্রি হবে?কটা আর সর্দার আসবে? সব তো সেই কর্তারপুর করিডোর দিয়ে নানকানা সাহেবেই যাবে।বড্ড ঝামেলায় পড়ল বেচারি।এত বছর যে আশায় বেঁধেছিল ঢাবা ঘর সেটা খদ্দের পাবে না!?
আলু দেওয়া বৌদির বিরিয়ানি থাকতে বাঙালি খাবে রুটি তরকা?
ছ্যাঃ!
Comments
Post a Comment